Posts

Phir Hera Pheri - THE GREATEST COMEDY MOVIE (বাংলা ভাষায়)

Phir Hera Pheri মুভিটির শুরু থেকে আমরা দেখতে পাই রাজু, শ্যাম আর বাবুরাও একটি বাংলোতে ধনী ও বিলাসবহুল জীবন যাপন করছিলো। কিন্তু তাদের ভাগ্যের চাকার এই সুঅবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। কিছুদিন পর, রাজু তার অসুস্থ মাকে হারায়, শ্যাম একটি দুর্ঘটনায় তার একমাত্র ভালবাসা অনুরাধাকে হারায়, অন্যদিকে বাবুরাও তার মানসিক সুস্থতা হারায়।

মুভিটি আমাদের আরও দেখায় যে উক্ত ত্রয়ীর মধ্যে রাজু সবথেকে বেশি বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে পছন্দ করত এবং সারাক্ষন যেকোনো উপায়ে দ্রুত আরও ধনী হওয়ার কথা ভাবত। এইভাবে হঠাৎ একদিন "Laxmi Chit Fund" নামক একটি সংস্থা থেকে তার কাছে ভুলবশত একটি কল আসে যেটি মূলত একজন ধনী বাবসায়ী দেবী প্রসাদের জন্য ছিল। 


সেখান থেকে সে উক্ত সংস্থার ম্যানেজার অনুরাধার কাছে ২১ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার স্কিম সম্পর্কে জানতে পারে। তবে সেই স্কিমের শর্ত এই ছিল যে টাকা দ্বিগুণ করার জন্য একজনকে সর্বনিম্ন ১ কোটি টাকা দিতে হবে।


এই কথাটি জানতে পেরে রাজু আনন্দে লাফিয়ে ওঠে ও এক মুহূর্ত না ভেবে সাথে সাথে ওই পরিমান টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায়। তবে কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে সে এতোটাও ধনী না যে সাথে সাথে ১ কোটি টাকা দিয়ে দিতে পারবে। তাই কিভাবে সে এত টাকার জোগাড় করবে তা নিয়ে তখন মনে মনে ভাবতে থাকে। ঠিক সেই সময় মাথায় তার বাকি দুই বন্ধু শ্যাম আর বাবুরাও এর কাছ থেকে কৌশলে টাকা নেওয়ার বুদ্ধি আসে।

যাইহোক পরের দিন রাজু যেমন তেমন করে তার বন্ধুদের পটিয়ে সেই ১ কোটি টাকা জোগাড় করতে সক্ষম হয়। আর এর কিছুদিন পরেই সেই "Laxmi Chit Fund" সংস্থার ম্যানেজার অনুরাধা টাকা নিতে তাদের বাংলোতে আসে। কিন্তু অনুরাধা যখন তাদের বাংলোতে প্রবেশ করে তখন তাকে দেখে শ্যামের তার আগের দুর্ঘটনায় হারানো অনুরাধার কথা মনে পড়ে। এইভাবে ধীরে ধীরে বাংলোতে প্রবেশের পর থেকে এই অনুরাধার উপর তার ভালবাসা বাড়তে শুরু করে।

অতঃপর সেই বাংলো থেকে অনুরাধা ১ কোটি টাকা নিয়ে বেরানোর সময় রাজু,শ্যাম আর বাবুরাওদের আবারও ২১ দিনে টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ২১ দিন পর সেই ত্রয়ী তাদের দ্বিগুণ টাকা নেওয়ার জন্য "Laxmi Chit Fund" অফিসে গিয়ে দেখে এটা পুরোটাই Scam ছিল। বুঝতে পারে তারাও অন্যান্য সবার মত জালিয়াতির শিকার হয়েছে।
অতঃপর এই পুরো ঘটনা একইসাথে আনন্দদায়ক ও পীড়াদায়ক পর্বে পরিনত হয়। কেননা শ্যাম ও বাবুরাও এত বড় জালিয়াতির পরও এইভেবে স্বস্তি পায় যে তাদের কাছে অন্তত ৫০ লাখ টাকার বাংলো রয়েছে, যা দিয়ে তারা তাদের এই অবস্থা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে। 

কিন্তু পরে জানা যায় রাজু ১ কোটি টাকা জোগাড় করার জন্য যে ৫০ লাখ টাকা এনেছিল সেটা আসলে তাদের বাংলো বেচা টাকা ছিল। এমনকি সে ২৫ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে পাপ্পু নামে এক অজ্ঞাত বাক্তির থেকেও ২০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। অর্থাৎ রাজু টাকা দ্বিগুণ করার জন্য যে ১ কোটি টাকা জোগাড় করে তার ৫০ লাখ টাকা আসে তাদের বাংলো বেচে, ২০ লাখ টাকা আসে পাপ্পুর কাছ থেকে এবং বাকি ৩০ লাখ টাকা আসে তাদের তিনজনের জমানো টাকা থেকে।

উক্ত Scam এর ঘটনার পর, তাদের বসবাসের স্থান একলাফে বাংলো থেকে বস্তিতে পরিনত হয়। আর এখান থেকেই "Phir Hera Pheri" পুরো মুভিটির চমৎকার অংশটি শুরু হয়। 

রাজু ২৫ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে পাপ্পু নামে যার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছিল, সে সেই টাকা আসলে তার মালিক তিওারিজির কাছ থেকে ধার নিয়েছিল। আর তার টাকা পরিশোধ না করলে তখন তার মালিক তিওারিজি পাপ্পুকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। তাই চাপে পড়ে পাপ্পুও পাগলের মতো রাজুকে খুঁজতে থাকে। একটা সময় সে রাজুকে এক ফুস্কার দোকানের সামনে খুঁজে পেলে তাকে তার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু ততক্ষনে রাজু দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় তার দেওয়ার মতো কিছু থাকে না এবং তাকে তাদের সাথে ঘটা Scam এর ঘটনা বলে। 

এদিকে পাপ্পু নিরুপায় হওয়ায় ও রাজুকে তার করুন অবস্থার কথা বোঝাতে না পারায় বাধ্য হয়ে সে অন্য এক পরিকল্পনা করে। তখন সে তার মালিক তিওারিজির দয়ালু প্রকৃতির আখ্যা দেয় এবং তার কাছে চাইলে আরও ২০ লাখ টাকা দেওয়ারও কথা বলে। তবে এর জন্য শুধু তার সাথে তাদের মালিকের বাড়ি যেতে চাইতে হবে মাত্র। পাপ্পুর এই কথা শুনে রাজু, শ্যাম আর বাবুরাও গলে যায় ও তিনজনই তার সাথে তাঁর মালিকের বাড়ি যাওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায়।

কিছুক্ষন পর তারা তিনজন যখন পাপ্পুর মালিকের বাড়ি পৌঁছায় তখন পুরো চমকে যায়। কারন তারা যে বাড়িতে পৌঁছায় সেটি আসলে ছিল ভয়ঙ্কর গুণ্ডাদের আস্তানা। 

আর তারা যে পাপ্পুর মালিকের কাছে পৌঁছায় আসলে সে ছিল গুণ্ডা দলের প্রধান তিওারিজি এবং পাপ্পু নিজে ছিল সেই গুন্ডা দলের একজন সদস্য। অতঃপর সেখানে গিয়ে পাপ্পু তার আসল রুপ ধরে এবং তার কাছ থাকে রাজু ও তার দুই বন্ধুদের ঠকিয়ে নেওয়া ২০ লাখ টাকার কথা তিওারিজির কাছে বলে তাদের মেরে ফেলতে বলে। 

অতঃপর তিওারিজির আদেশ অনুযায়ী তাদের তিনজনকে বন্দি করে নিয়ে যাওয়ার পথে তারা কৌশলে যেনতেন করে পালিয়ে যায়। আর এরপর‍ই আমরা মুভিটির সব থেকে দুঃখদায়ক ঘটনার অংশ দেখতে পাই। 

কারন রাজুর পালিয়ে যাওয়ার সময় তার প্রেমিকা অঞ্জলির কথা মনে পড়ে যার কাছে কিছু ধারের টাকা শোধ করতে হত। আর তাই সে টাকা পরিশোধ করার জন্য লুকিয়ে লুকিয়ে তার প্রেমিকার বাড়ি পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে সে ও তার দুই বন্ধু দেখতে পায় তারা যে গুন্ডা দলের সদস্য পাপ্পুকে দেখেছিল সেটি ছিল আসলে রাজুর প্রেমিকা অঞ্জলির ভাই। 

ঘটনাক্রমে আরও জানতে পারে পাপ্পু, তার বোন ও গুন্ডা দলের প্রধান তিওারিজির কাছ থেকে যে ২০ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল আসলে সে ওই টাকার দ্বিগুণ করে তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজু তাকে ২৫ দিনে টাকা দ্বিগুণ করার লোভ দেখিয়ে তার সাথে প্রতারনা করে এবং তার সব টাকা আত্মসাৎ করে।

ঠিক সেই সময় টাকা শোধ করতে না পারায় তিওারিজির গুণ্ডার দল পাপ্পুর বাড়ি থেকে তাকে ও তার বোন অঞ্জলিকে তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়। এই সমস্ত কিছু দেখার পর রাজু খুবই হতাশ হয় এবং এর জন্য সে নিজেকে দায়ী করে। 

একইসাথে এইসময় রাজু টাকার প্রতি তার অতি লোভের ভুলও বুঝতে পারে। এবং সে তার দুই বন্ধুকে স্টেশনে রওনা করিয়ে তিওারিজির কাছে ক্ষমা চেয়ে অঞ্জলি ও পাপ্পুকে উদ্ধার করতে রওনা হয়। কিন্তু তখনই তার দুই বন্ধু শ্যাম ও বাবুরাও দ্বিগুণ টাকার লোভে পা দেওয়ায় তারাও রাজুর সাথে নিজেদের দোষী দায়ী করে এবং তার এই বিপদেও পাশে থাকার আশ্বাস দেয়।

এরপর তারা তিনজন তিওারিজির আস্তানায় পৌঁছায় এবং রাজুর প্রেমিকা অঞ্জলি ও তাঁর ভাই পাপ্পুর মুক্তির বদলে নিজদের বন্দি করে নিতে বলে। এই সময় তিওারিজি সমস্ত কিছু শোনার পর তাদেরকে নতু্ন করে একটি শর্ত দেয়। আর সেই শর্তটি ছিল তাদেরকে এবার ৩ দিনে ৪০ লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের তিনজনকেই মেরে ফেলা হবে।

কোনো উপায় না দেখে রাজু ও তার দুই বন্ধু তাতেই রাজি হয়ে যায়। এরপর তিওারিজির গুণ্ডারা তাদের তিনজনকে তাদের সেই পুরনো বস্তিতে ছেড়ে যায়। আর পরিবর্তে তারা অনুরাধা ও অঞ্জলিকে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। 

এরপর হঠাৎ একদিন রাজু তার পাশের ঘরের পর্দার আড়ালে আরও এক গুণ্ডার হদিস পায়। ভাগ্যবশত সেদিন সে মেয়েরুপি একজন ছেলেকে খেয়াল করে যে কিনা সেই গুন্ডা দলের প্রধান মুন্না ভাইকে এক বিশাল অঙ্কের টাকার খোঁজ দেয়। সেখান থেকে সে Khetwadi পুলিশ স্টেশনের ছাদে থাকা আরেক গুন্ডার দল নাঞ্জি ভাইয়ের কাছে কমপক্ষে ৩-৪ কোটি টাকার কথা জানতে পারে। 

এসব পর্দার আড়ালে দেখা ও শোনার পর, রাজুর মাথায় মুন্না ভাইয়ের ঘর থেকে সেই চুরি করা অর্থ আবারও চুরি করার চিন্তা আসে। ফলে এর কিছুক্ষন পর রাজু যেমন তেমন করে তার সাথে থাকা বাকি দুই বন্ধুকেও এই চুরির ব্যাপারে রাজি করায়। রাজুর পরিকল্পনা ছিল মুন্না ভাই যখন টাকা নিয়ে তার আস্তানায় ফিরবে ঠিক তখনি তারা তিনজন জোকার সেজে তাদের উপর বন্দুক তাক করবে এবং ভয় দেখিয়ে তাদের থেকে টাকা নিয়ে নেবে। 

কিন্তু তারা পরিকল্পনার সময় বুঝতে পারে তাদের কাছে তাক করার জন্য কোনো বন্দুক নেই।এই সময় তারা চোরবাজারের কাচরা শেঠ এর কাছ থেকে তিনটি বন্দুক কেনে এবং পরিকল্পনামতো মুন্না ভাইয়ের কাছ থেকে অর্থ চুরির জন্য প্রস্তুত হয়। 

আর এরপর থেকেই "Phir Hera Pheri" মুভিটি আরেকটি চমৎকার দিকে মোড় নেয়। 

কারন ইতিমধ্যে রাজু Parsi নামে যে ব্যক্তির কাছে বাংলো বেচেছিল তাঁর কাছে ১৫টি বন্দুক ছিল। ওই ১৫টির মধ্যে তিনটি বিশেষ বন্দুক ছিল যার দাম ৩ থেকে ৫ কোটি টাকারও বেশি। 

আর এই সময় তিওারিজি Parsi এর কাছ থেকে বন্দুক আনার কথা বললে পাপ্পু তাকে চিনতে পারে এবং সে তিওারিজিকে সেই ১৫টি বন্দুক ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেয়। 

এটা শোনার সাথে সাথে তিওারিজিও সেই তিনটি বিশেষ বন্দুক আনার জন্য তাকে ও তাঁর বোন অঞ্জলিকে পুরোপুরি মুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই আনন্দে পাপ্পুও রাজি হয় ও পরিকল্পনামতো সেই রাতেই Parsi র বাড়ি চুরি করতে বেরিয়ে পড়ে। আর এখানেই আবার একটা গোলমাল ঘটে। 

কারন Parsi র বাড়ি থেকে পাপ্পু সফলভাবে বন্দুক চুরি করলেও সে সেই তিনটি বিশেষ বন্দুক বাদে তিওারিজির কাছে বাকি সমস্ত বন্দুক নিয়ে আসে। কারন তাঁর সাথে চুরি করার জন্য সে সহযোগী ২টি চোর গেছিল তারা Parsi র ঘরে তিওারিজির বলা ১৫ টিরও বেশি বন্দুক পেয়েছিল। আর তাই অতিরিক্ত বন্দুক পেয়ে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করার জন্য সেই তিনটি বিশেষ বন্দুককে সাধারন বন্দুক ভেবে তারা চোরবাজারে তা বিক্রি করে দেয়। 

আর ভাগ্যবশত, রাজুরা যে তিনটি বন্দুক চোরবাজার থেকে কিনেছিল এটাই সেই তিনটি বিশেষ বন্দুক ছিল। কিন্তু তারাও তখন অবধি ওই বন্দুকের আসল মূল্য জানত না । ফলে অন্যান্য সবার মত তারাও এটাকে সাধারন বন্দুক ভেবেই মুন্না ভাইয়ের ঘরে সেই ৪ কোটি টাকার ব্যাগ চুরির পরিকল্পনা করে। 

আর সেইরাতে জোকার সেজে মুন্না ভাইয়ের ঘর থেকে টাকার ব্যাগ চুরি করতে তারা সফলও হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা সেই ব্যাগে টাকার পরিবর্তে অনেক পরিমান মাদকদ্রব্য খুঁজে পায়।আর এটা দেখার পর তখন তারা তিনজনই হতাশ হয়ে যায় এটা ভেবে যে তাদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ। কিন্তু এই সময় রাজুর হঠাৎ মাদকদ্রব্য কেনাবেচা করা কাচরা শেঠের কথা মনে পড়ে যার কাছে ওই পরিমান মাদকদ্রব্য বেচলে কয়েক কোটি টাকা পেতে পারে।

তাই পরের দিন সকালে রাজু সেই চুরি করা মাদক কাচরা শেঠ এর কাছে বিক্রি করতে রওনা হয়। কিন্তু তাঁর ফিরতে দেরি হওয়ায় বাবুরাও ও শ্যাম তাকে খুঁজতে বেড়িয়ে পড়ে। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ বাবুরাও এর সাথে তাদের সেই ১ কোটি টাকা চুরি করা "Laxmi Chit Fund" এর ম্যানেজার অনুরাধার সাথে দেখা হয়। আর দেখা মাত্রই তারা তাঁর কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের জন্য বাবুরাও ও শ্যাম তাঁর পিছন পিছন ছুটতে শুরু করে।

আর ঠিক তখনই তাঁর থেকে হীরা কেড়ে নেওয়ার জন্য মিলিটারির রূপধারী আর এক গুণ্ডার দলও তাঁর পিছন পিছন ছুটতে থাকে। অবশেষে অনুরাধা মিলিটারির রূপধারী গুণ্ডার দলের কাছ থেকে বাঁচতে পারলেও রাজু আর বাবুরাও এর কাছ থেকে ছুটে পালাতে পারে না। এমন সময় একদিকে যেমন রাজু ও বাবুরাও তাদের টাকা জালিয়াতির জন্য অনুরাধাকে দোষারোপ করে অন্যদিকে আগের হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা অনুরাধার মধ্যে এই অনুরাধার মিল খুঁজে পাওয়ায় শ্যাম তাকে নির্দোষ ভাবে। এইভাবে তাদের তিনজনের মধ্যে তাকে নিয়ে তুমুল আকারে ঝগড়া বাধলে স্বয়ং অনুরাধা আসল সত্য শোনার জন্য সবাইকে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানায়। 

অতঃপর সে জানায় সেদিন সে আসলে গুন্ডা দলের সদস্য কাবিরার চাপে পড়ে তাদের তিনজনের ১ কোটি টাকা চুরি করতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়াও একদিকে যেমন চাকরি হারিয়ে তাঁর আর্থিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিলো অন্যদিকে তাঁর বোন সেই কাবিরার দলে যোগ দেওয়ায় তাঁর বোনের মেয়ের দায়িত্বভারও তাঁর উপর এসে পড়ে। ফলশ্রুতিতে অন্য কোন কাজ না পেয়ে সে বাধ্য হয়ে Bar Dancing পেশার সাথে যুক্ত হয় যা রাজু সেদিন লক্ষ্য করেছিল। 

এইভাবে কিছুদিন চলার পর হঠাৎ একদিন বাড়ি এসে দেখে তাঁর বোনের মেয়ে ছিনতাই হয়ে গেছে। পরে সেখানে পড়ে থাকা কাবিরার চিঠি পড়ে জানতে পারে তাঁর বোনের মেয়েকে উদ্ধারের জন্য রাজু,শ্যাম ও বাবুরাও এই তিনজনের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা নিয়ে আসতে হবে।

অতঃপর কাবিরার কথা মতো সে সেই ১ কোটি টাকা উদ্ধার করে তার পরিবর্তে হীরা কিনে নিয়ে গুণ্ডাদের আস্তানায় পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখে কাবিরার কাছ থেকে সেই তাঁর বোনের মেয়ে কোথাও হারিয়ে গেছে। এটা জানার পরে সে দ্রুত কোনোমতে গুণ্ডাদের হাত থেকে হীরা নিয়ে পালিয়ে আসে এবং পালানোর সময় সেই হীরাগুলো তার চেনা করিম চাচার কাছে দিয়ে আসে।

ইতিমধ্যে রাজু ও তাঁর দুই বন্ধু, মুন্না ভাইয়ের থেকে চুরি করা মাদকদ্রব্য চোরবাজারের কাচরা শেঠের কাছে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়। অতঃপর কাচরা শেঠের কাছ থেকে তাদের পুরানো বস্তির বাড়িতে ফিরে আসলে তারা মার খাওয়া মুন্না ভাইয়ের গুণ্ডাদের পড়ে থাকতে দেখে। এই সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘরে লম্বা উচ্চতার মদন সিং ও একজন কালো শক্তিশালী গুন্ডা তাদের লুকানো অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে। 

তখন তারা ওই গুণ্ডাদের দ্বারা তাদের মারার জন্য রাজুদের সন্দেহ করে। এই সময় রাজুদের কাছ থেকে তিওারিজির ৪০ লাখ টাকা না পাওয়ায় তারা আরও খেপে যায়। ফলে খেপে গিয়ে তারা রাজু ও শ্যামের প্রেমিকা অঞ্জলি ও অনুরাধাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নেয় এবং তিওারিজির টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তাদের জিম্মি রাখার হুমকি দিয়ে যায়।

অতঃপর সেইদিনই রাজুরা তিওারিজির কাছে ফোনের মাধ্যমে বিকাল ৫টার মধ্যে Royal Circus এ তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আর সেখানেই এই মুভিটির সব থেকে চরম নাটক শুরু হয়। 

অনুরাধার বোনের মেয়ে যে কিনা গুন্ডা কাবিরার কাছ থেকে হারিয়ে গেছিল, Royal Circus এর নাম শুনার পর তার করিম চাচার Kook Doo Koo তে হীরা লুকিয়ে রাখার কথা মনে পড়ে। তাই সেই হীরা উদ্ধারের জন্য সেও Royal Circus এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

এখন এই Royal Circus এ রাজুদের যেমন একদিকে কাচরা শেঠের কাছে মাদক বেচে ৪ কোটি টাকা নিতে হত। অন্যদিকে সেখান থেকে আগে থেকে বলে রাখা তিওারিজির ৪০ লাখ টাকা ফেরত দিতে হত। 

তাই তখন রাজু ভাবল কাচরা শেঠের কাছ থেকে পাওয়া ৪ কোটি টাকা থেকে তিওারিজির ৪০ লাখ টাকা দিয়ে দিলে সব গোলমাল মিটে যাবে। কিন্তু তখন গোলমাল সবে শুরু হয়েছিল। 

কারন শর্তমোতাবেক রাজুরা কাচরা শেঠকে যে মাদক দিয়েছিল এবং তার পরিবর্তে তারা যে টাকা নিয়েছিল তা উভয়ই নকল ছিল। টাকাগুলো নকল ছিল এটা জানার পর, তারা সেই তিনজনই চমকে যায় এবং দুঃখে ভেঙ্গে পড়ে। কিন্তু এই সময় রাজুর মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। সে তিওারিজির অজান্তে সেই নকল টাকা তাদের কাছে দিয়ে তার পরিবর্তে তাদের কাছে জিম্মি থাকা অনুরাধা ও অঞ্জলিকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করে। 

অতঃপর পরিকল্পনানুসারে, তিওারিজির ৪০ লাখ টাকা এবং অনুরাধা ও অঞ্জলিকে পাল্টাপাল্টির সময় পাপ্পু যে কিনা তিওারিজির তিনটি বিশেষ বন্দুক ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে তা নিয়ে ঠিক সেখানে এসে উপস্থিত হয়। এটা দেখার পর তিওারিজি খুশি হয় কারন সে একই সাথে সেই তিনটি বিশেষ বন্দুক ও ৪০ লাখ টাকা উভয়ই পেয়ে যায়। 

আর ঠিক এই সময়ই চোর বাজারের মাদক বিক্রেতা কাচরা শেঠ তাদের দেওয়া টাকাকে নকল বলে উল্লেখ করে। ফলে এই সময় রাজু ও শ্যাম চালাকির সাথে কোনোক্রমে অনুরাধা ও অঞ্জলিকে উদ্ধার করতে পারলেও তারা যে নকল টাকা দিয়েছিল তা তিওারিজির কাছে ফাঁস হয়ে যায়। ঠিক সেই সময় রাজুসহ বাকিরা খেয়াল করে আসল কোটি টাকার ব্যাগটি একটি গাড়িতে রয়েছে। কিন্তু ঠিক তখনই সেখান থেকে মুন্না ভাই সেই টাকা চুরি করে নেয়। 

এইভাবে সেই Royal Circus এ মুন্না, তিওারিজি, কাচরা শেঠ, কাবিরা, রাজুদের মধ্যে মাদক, আসল টাকা ও হীরা নিয়ে হাত বদলাবদলি হয়ে গণ্ডগোল চলতে থাকে। কিন্তু সেখানে তখন আরও গণ্ডগোল পাকিয়ে যায় যখন গরিলার থেকে একটা কলা চুরি করার জন্য মুন্না ভাইয়ের পিছনে আবার একটি গরিলা লেগে যায়। এইভাবে অনেকক্ষণ দৌড়াদৌড়ি-ছুটোছুটি চলার পর অবশেষে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয় এবং পাপ্পু, মুন্না, তিওারিজি, কাচরা শেঠ, কাবিরা প্রভৃতি গুণ্ডাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আর ভাগ্যবশত শেষ সময়ে এসে সেই আসল টাকা ও বন্দুক রাজুদের হাতে চলে আসে। 

কিন্তু মুভিটির ঘূর্ণি এখানেও শেষ হয় না। 

পাপ্পু পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় রাজুদের হাতে আসা সেই তিন বিশেষ বন্দুকের কোটি টাকার মূল্যের কথা শ্যাম ও বাবুরাওকে বলে যায়। কারন তখন অবধি রাজুদের তিনজনের কেউই সেই তিনটি বন্দুকের আসল মূল্য জানত না। আর সেই বন্দুকের মূল্য জানার পর পরই তখন তারা আনন্দে লাফিয়ে ওঠে।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তখনই আবার দুঃখে আপসোস করে। কারন তারা জানতে পারে রাজু ততক্ষনে সেই বন্দুকের ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সেগুলোকে ফেলে দিতে ইতিমধ্যে রওনা হয়েছে। তারপরও সেই সময় শ্যাম ও বাবুরাও মিলে সেই বন্দুক তিনটির মূল্য জানাতে তাকে ফোন করার চেষ্টা করতে থাকে। 

অন্যদিকে দেখা যায় রাজুর সেই বন্দুকের ব্যাগ ফেলার জন্য একটি ব্রিজের উপর পৌঁছায়। তবে ব্রিজ থেকে নদীতে ছুঁড়ে ফেলতে গিয়ে সেই বন্দুকের ব্যাগ হাস্যকরভাবে ব্রিজের একটি পিলারে আটকে যায়। আর ঠিক তখন তাঁর কাছে ফোন আসলে সে সেটা মুখে নিয়ে পিলার থেকে সে বন্দুকের ব্যাগ ছাড়ানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে।






আর এভাবেই এই দৃশ্যের সাথে দর্শকদের জালিয়াতি বাবসার করুন পরিনামের বার্তা দিয়ে হাস্যরস সৃষ্টিকারী এই মুভিটির ইতি ঘটে। তবে এটি আমাদের একটি বাস্তবিক শিক্ষা দিয়ে যায় যে জালিয়াতি বাবসা সত্যিকারের টাকা উপার্জন করার কোনো পথ নয় বরং সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পরিশ্রমই টাকা উপার্জনের একমাত্র পথ।